সময়ের অবিরাম চলন

-মুনিমা মান্নান শৈলী

বড় অদ্ভুত এ জীবন-
এইতো সেইদিন,
কিছুদিন আগেরই কথা,
তুমি আমাকে ছাড়া একদমই থাকতে পারতে না।
প্রতি মুহূর্তে আমার খবর নিতে,
প্রতিদিন আমাকে দেখতে আসতে।
যেন তোমার আর আমার একজন আরেকজনকে ছাড়া হৃৎপিন্ডের স্পন্দন থেমে যাচ্ছে,
যেন আমরা দুজন দুজনের শ্বাস প্রশ্বাস,
কেউ কাউকে ছাড়া বেঁচে থাকাটা কল্পনাই করতে পারিনা।
এইতো সেইদিনেরই কথা,
তুমি আমার জন্য এক তোড়া লাল গোলাপ নিয়ে এসেছিলে,
নিজ হাতে পরিয়ে দিয়েছিলে আমার খোঁপায়,
তারপর তোমার ওই ফোন দিয়ে আমার ছবি তুলেছিলে,
এরপর দেখিয়ে বলেছিলে, এই হলো পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর রাজকন্যা, আমার রাজকন্যা!
এইতো সেদিনের কথা,
নিজে না খেয়ে ভাতের প্রতিটি লোকমা তুলে দিয়েছিলে আমার মুখে,
তোমায় বলেছিলাম, তুমি খাবেনা?
তুমি কী বলেছিলে মনে আছে তোমার?
তুমি বলেছিলে, আমি খেলেই তোমার খাওয়া হলে যায়,
আমার পেট ভরলেই তোমার পেট ভরে যায়।
খুব বেশি দিন আগের কথা নয় কিন্তু,
তুমি আর আমি; হাতে রেখে হাত পাশাপাশি ঘুরে বেড়িয়েছিলাম রেললাইনের পাশ ধরে,
ভালোবাসার আলিঙ্গনে একজন আরেকজনকে সিক্ত করেছিলাম,
খুব কি বেশি দিন আগের কথা?
আমার কিন্তু সব মনে আছে,
সুস্পষ্ট ভাবে মনে আছে,
এখনও স্মৃতির পাতাটা খুললেই মনে হয়-
এইতো দুদিন আগে কথা,
কিন্ত না; মাঝে পেরিয়ে গেছে অনেকটা সময়,
এই মাঝের সময়টাতে তোমার আর আমার একটি পথ বেঁকে হয়ে গেছে ভিন্ন।
এখন আর দুজনের পথ একসাথে, এক সমুদ্রে মেশে না।
আমাদের এই ভিন্ন পথে দুজনের সাথে দুজনের আর সাথে দেখা হয়না।
দু’টি পথের পথিক হয়ে আজ আমরা ভুলে গেছি একে অন্যকে,
সত্যি কি আমরা ভুলতে পেরেছি?
নাকি ভোলার অভিনয় করে যাচ্ছি?
দিন শেষে আমি কিন্তু সত্যি তোমাকে মনে করি,
মনে করি সেই রেললাইন, সেই রাস্তা, সেই তুমি, সেই আমি- সেই লাল গোলাপের তোড়া।
তোমার প্রতিটি কথা এখনো আমার কানে বাজে।
তোমার কথার ধ্বনিতে রাত-দিন পাড় হয়ে যায়!
আমাদের পথ আলাদা হলে কি হবে,
হৃদয়টা বুঝি এক পথেই রয়ে গেছে।
আচ্ছা! তোমার কি মনে পরে আমায়?