বাস্তবতা

একজন চোর, এলাকাই চোর হিসেবে রয়েছে তার অনেক দুর্নাম। চুরি করে অনেকবার ধরাও খেয়েছে সে। হঠাৎ করে সে চুরি করা ছেড়ে দিল। এবং সাধারণ ও সুন্দর জীবন-যাপন করতে লাগলো। কিন্তু এলাকায় একদিন বড় ধরনের চুরি হলো এবং এলাকার সবার নজর গেলো সেই প্রাক্তন চোরের দিকেই। তাকে সবাই ধরে আনলো আর জেরা করতে লাগলো। সে যতই বলল আমি চুরি করিনি কিন্তু কেও তাকে বিশ্বাস করলো না। উল্টো চুরির মাল ফেরত দেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে লাগলো। কিন্তু সে কিভাবে তা ফেরত দেবে? সেতো চুরিই করেনি বরং অনেক আগে চুরি করা ছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু সেটা কেবল সেই জানে। আর কেউ তার কথা মানলো না বরং তাকে জেলে পাঠিয়ে দিল। তাতে কিন্তু কেউ তাদের মালামাল ফেরত পেল না বরং নিরপরাধ মানুষটি জেলে গেল। আর আসল চোর দৃষ্টির আড়ালেই রয়ে গেল।

আমাদের মধ্যেই অনেক খারাপ স্বত্বার বসবাস। তাদের সবাই এতো খারাপ হিসেবে জানে যে তাদের মাধ্যমে যদি কোন ভালো কাজও হয় তাও কেউ বিশ্বাস করে না। কিংবা তাদের করা কোন মহৎ কাজের মধ্যেও মানুষ ভুল-ত্রুটি খুঁজে বেরায়। কিভাবে প্রতিনিয়ত কথা, কাজ ও নানা ভাবে হেনস্তা করা যায় সেই চিন্তায় আবার অনেক লোকের ঘুম হারাম। আমরা মানতেই রাজি না যে সে বদলে গেছে, বা সে খারাপ মানুষ হলেও সে ভালো কাজও করতে পারে। তার দ্বারা সব সময় খারাপ কাজ হবে এমনটা মেনে নেয়া যেন পাপ।
-যার অনেক রাগ বেশি যে শুধু রাগ করেই যাবে, ভালোবাসা তার মধ্যে বিলুপ্ত।
-যে পাপী পাপ করাই তার একমাত্র ধর্ম, তার দ্বারা পুণ্য করা সম্ভব না।
-যে খারাপ মানুষ সব কিছুতেই তার খারাপ খোঁজা, ভালো কোন কাজ তার সাথে যায়ই না।
-যে শক্ত মনের মানুষ রুক্ষতা তার জীবনের মূলনীতি, নমনীয়তা তাকে দিয়ে হবেই না।

কেন আমরা ভাবি যে কেউ তার চিরচেনা স্বভাবের বাইরে যেতে পারবে না? মানুষই তো, কখন বদলায় বলা তো যায় না। বদলানোটা যদি ভালোর দিকে যায় তবে উৎসাহ দিতে কার্পণ্য কেন? কেন নয় সৌহার্দ্যপূর্ণ হাত বাড়িয়ে দেয়া?

-মুনিমা মান্নান শৈলী